Header Ads Widget

Responsive Advertisement

Ticker

6/recent/ticker-posts

ভাল্লাগেনা!!! (Discomfort anxiety)

 Discomfort anxiety 

ভাল্লাগেনা!!! ভাল্লাগেনা!!! ভাল্লাগেনা!!!

টিনেজার থেকে বয়স্ক সবার ই এখন কমন একটি উক্তি হচ্ছে ভাল্লাগেনা। পড়াশোনা করতে ভাল লাগেনা, চাকরি করতে, বিজনেস করতে কোনো কিছুই করতে ভাল লাগেনা।  


ক্লিনিকাল সাইকোলজির ভাষায় একে বলে ডিসকমফোর্ট এংজাইটি। শ্রম ছাড়া কোনো কিছু অর্জন করা সম্ভব না। আমার এই কাজটি করা উচিৎ কিন্তু সেটা করার জন্য আমি মানষিক ভাবে প্রস্তুত না। যেহেতু আমার করতে ভাল লাগছেনা আমি করব না এটাই স্বাভাবিক।


কিন্তু ফ্যাক্ট হচ্ছে পৃথিবী আমাকে কেন্দ্র করে ঘোরেনা, সব কিছুই আমার ভাল লাগবে, ব্যপারটা কিন্তু তেমন না। জীবনে যারাই ভাল কিছু করেছে তাদের সেই জার্নিটা মোটেও সুখকর বা এঞ্জয়বেল ছিলনা। মাতৃত্বের কথাই ধরুন না, আপনি যদি একজন মাকে জিজ্ঞেস করেন যে তার সন্তানকে অসম্ভব ভালবাসে। তাকে যদি বলেন মাতৃত্বের জার্নিটা কি সে পুরোপুরি এঞ্জয় করেছেন? তার এন্সার ডেফিনেটলি না হবে।কিন্তু কেন সেই মা কষ্ট করলো? কারন সেই কষ্ট ছাড়া তার সন্তান পেতেন না। আপনি একটা বিজনেস করতে চান? আপনাকে দায়িত্ববোধ এর জায়গা থেকে সেটা কন্টিনিউ করতে হবে।


আপনি যদি নিজেকে জিজ্ঞেস করেন আপনার ভাল লাগে কি না!  এন্সার আসবে না ভাল লাগেনা। কিন্তু আপনার ভাল মন্দ লাগায় কোনো জায় আসবেনা,এটাকে এত মূল্যায়ন করার কিছু নাই। আপনি জীবনে যাই এচিভ করতে চান - সেটা হতে পারে উদ্যক্তা, ব্যবসায়ী,  ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা মডেল…! আপনি যদি শুধুমাত্র এটা ভেবে বসে থাকেন যে আপনার ভাল লাগেনা, তাহলে কোনো কিছুই এচিভ করা সম্ভব নয়। রুটিন/ কনসিসটেন্সি মানুষের ভাল লাগেনা। আপনার যদি পৃথিবীর সকল প্রতিভা থাকে কিন্তু একটা গুন যদি না থাকে, তাহলে আপনি এগোতে পারবেন না। সেই গুনটা হচ্ছে সেল্ফ একাউন্টিবিলিটি। এটা ছাড়া কোনো কিছুই সম্ভব নয় অর্জন করা।


ডিসকম্ফোর্ট এংজাইটি এবং ডিপ্রেশন এক না। ডিসকম্ফোর্ট এংজাইটি হচ্ছে মানুষের লাইফের একটা পার্ট। সকালে উঠতে ইচ্ছে করেনা, কাজ করতে ইচ্ছে করেনা… এগুলো কখনোই করতে ভাল লাগেনা।

ডিপ্রেশন হচ্ছে আপনি কাজে  সব সময় প্রডাক্টিভ ছিলেন, কিন্তু হঠাৎ করেই কোনো কারনে তার প্রোডাক্টিভিটি লস করে ফেলেছেন। এখন আপনার সমস্ত কাজেই অনীহা লাগে। সেটা হচ্ছে ডিপ্রেশন। 


যে কোনো ভাল কিছু বড় কিছু প্রচুর পরিমান কষ্টের পরে আসে। আমরা এমন একটা জগতে বাস করি যেখানে সবাই শুধু সহজ রাস্তা খুজি। আপনি জব ছেড়ে বিজনেস ধরলেন, কিছুদিন পর সেটা চেঞ্জ করে অন্য কিছু করলেন। তখন বলবেন ওটা আমার প্যাশন ছিল, এখন আমার প্যাশন হারায় ফেলেছি। আসলে আপনার প্যাশন কিছুই ছিলনা। আপনার ছিল ইমপালসিভ এক্সপেক্টেশন একটা সহজ লাইফের জন্য। যেটা আপনার কখনো হয়নাই কারন  বড় কিছু কষ্ট ছাড়া আসেনা। আমাদের স্বাস্থের জন্য উচু কমোড ক্ষতিকর। কিন্তু আমরা উচু কমোড ইউস করি, আমাদের স্বাস্থের জন্য শক্ত বিছানা ভাল কিন্তু আমরা নরম বিছানা ছাড়া ঘুমাতে পারিনা। আমাদের সৃষ্টিটাই এমন যেখানে কষ্ট ছাড়া ভাল কিছু আসেনা। এ জন্য এই প্রশ্নটাই করা অযৌক্তিক অপ্রাসঙ্গিক যে আমার ভাল লাগছে কিনা।  

কোন জিনিস গুলো আমার লাইফকে অর্থবহ করে তোলে এবং সেটা করার জন্য আমি কি সেক্রিফাইস করব। আমি কোন সেক্রিফাইস টা করতে চাই, যেটার মাধ্যমে আমার লাইফের পারপাস ফুলফিল করতে পারব, এগুলো আগে থেকেই ফিক্স করে নিতে হবে। তখন এই কষ্টের জার্নিটাকে আমি এঞ্জয় করব।

আমাদের লাইফ হচ্ছে এম সি কিউ কোশ্চেন এর মত!

যার প্রতিটি অপশন-

ক. কষ্ট খ. কষ্ট

গ. কষ্ট ঘ. কষ্ট

এর মধ্যে যথাযথ অপশনটাই আমাদের চুজ করতে হবে, যেটা আমাদের লাইফে মিনিং দেয়, পারপাস দেয়, আমার লাইফে কোন জিনিস গুলো অর্থ দেয়। এছাড়া বাকি অপশন গুলো আমার জন্য ভুল। বিয়ে করলে কষ্ট, সংসার করা কষ্ট, পড়াশোনা করতেও কষ্ট,জব করতেও কষ্ট আবার বেকার থাকলেও কষ্ট, বিয়ে না করলেও কষ্ট। বিয়ে করার কিংবা জবের কষ্ট নিতে পারবেন কিনা তা ডিপেন্ড করবে আপনি জীবনে কি চান তার উপরে। কোন জিনিস গুলো আপনাকে আনন্দ দিবে? কিংবা জীবনের শেষে গিয়ে কোন জিনিস গুলো এশিভ করতে না পারলে আপনি কষ্ট পাবেন। কোন জিনিস গুলো করতে পারলে আপনি সফল আর কোন জিনিস করতে না পারলে ব্যর্থ হবেন। সামনের সপ্তাহ থেকে  মাসে কিংবা এই এক বা দুই বছরে কোন কষ্ট / সেক্রিফাইস করলে আমি আমার লক্ষ্যে পৌছাব। তারপর আদা জল খেয়ে লেগে পরতে হবে। 

এভাবেই অর্থবহ একটা জীবন আপনি আমি যাপন করতে পারি! প্রতি মুহূর্তে ভাললাগা কে না খুজে  ওই রাস্তাকে খুজতে হবে যেটা আমাদের জীবনকে একটা পারপাস দেয়, মিনিং দেয়..!


ব্লগারঃ জাকিয়া তাজরিন লোপা


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ