বর্তমানে ডিভোর্স এর হার অনেক বেশি বেড়ে যাচ্ছে। চরম আকার ধারন করেছে।বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে ৬ হাজার ডিভোর্স হচ্ছে। যার মধ্যে ৭০% ই নারীরাই আবেদন করে। ডিভোর্স এর হার শিক্ষিতদের মধ্যে বেশি দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এত ডিভোর্স বেড়ে যাওয়ার কারন কি? বিয়ের আগে কিছু পূর্ব প্রস্তুতি হয়তো কিছু হলেও ডিভোর্স এর হার কমাতে সাহায্য করবে। এছাড়াও এই হার প্রকৃত পক্ষে আরো বেশি বেড়ে যেত যদি দম্পতিরা ড্রামাটিক রিলেশনে আবদ্ধ না থাকতো।
আসুন তাহলে জেনে নেয়া যাক কিছু টিপস।
লিখেছেনঃ জাকিয়া তাজরিন লোপা
বিয়ের আগে যে পাঁচটি প্রস্তুতি নিতে হবেঃ
১. দায়িত্ব নেয়াঃ
আপনি যখন বিয়ে করতে যাচ্ছেন তার আগেই আপনাকে দায়িত্ব নেয়ার মত মানষিকতা তৈরি করতে হবে। মনে রাখবেন 'Marriage is not about honeymoon.' এমন নয় যে শশুর বাড়ি যাওয়ার সাথে সাথে আপনাকে রেওয়ার্ড দেয়া হবে। এটা সম্ভব নয়। আপনি যখন কোনো অফিসে নতুন জয়েন করেন সাথে সাথে আপনি প্রমোশন পাননা। আপনাকে শ্রম দিতে হবে, কষ্ট করতে হবে তারপর ই মালিক আপনার প্রমোশন কিংবা স্যালারি বাড়িয়ে দিবেন। আর পরিশ্রম ফল আপনি ৩০ বছর পর হয়তো আরো বড় পরিসরে রেওয়ার্ড পেয়ে যাবেন। একইভাবে বিয়ের পর পর ই যদি আপনি বলেন আমি কেন কষ্ট পাব কি হবে..! এসব ভাবলে আপনি কখনোই হ্যাপি হতে পারবেন না।
২. খোলামেলা ভাবে কথা বলাঃ
বিয়ের আগেই আনকম্ফোর্ট নেসেসারি বিষয় গুলো নিয়ে কথা বলুন। সেটা হতে পারে ফ্যামিলি প্লানিং, ফাইনানশিয়াল প্লানিং। আবার অনেক সময় এরকম চিন্তা মাথায় আসে যাকে বিয়ে করতে যাচ্ছি তার সাথে ঘুড়তে যেতে কেমন লাগবে কিংবা কফি খেতে কেমন লাগবে… এগুলো জিজ্ঞেস করতে পারেন। যদিও এগুলো তেমন জরুরী নয়। কিন্তু মাথায় আসলে কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলে ফেলুন। আমরা যেটা ভুল করি সেটা হচ্ছে যাকে বিয়ে করতে যাচ্ছি তার সাথে আমার আন্ডারষ্টান্ডিং কেমন হবে তার ফিলোসফি আমার ফিলোসফি কতটা ম্যাচ করবে এগুলো আমরা ইগনোর করি। আপনি এরেঞ্জ ম্যারেজ করতে যাচ্ছেন আপনার ফ্যামিলির কথা বলার আগে আপনি কথা বলুন, বোঝার চেষ্টা করুন। যদি পজেটিভ হয় তারপর ফ্যামিলিকে জানান। পাত্র পাত্রী কথা বলার আগে ফ্যামিলি কথা বললে পাত্র পাত্রীর উপর অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ পরে, যেটা পরে মোকাবেলা করা কঠিন হয়ে পারে। পাত্র পাত্রী কথা বলে বিয়ে হলে খুব কম প্রব্লেম হবে তাদের ভাললাগা অটোমেটিক ভাবে ফ্যামিলিতে প্রতিফলিত হবে।
৩। মানিয়ে চলাঃ
অনেকে আছে যারা বিয়ের আগের এবং পরের লাইফ দুটোকেই একি রকম রাখতে চায়। এটা কখনো সম্ভব না। দশ কিংবা পঞ্চাশ শতাংশ যেটাই হোক চেঞ্জ হবেই। আপনার প্রাইভেসি আগের মত থাকবেনা। নতুন পরিবেশে নতুন মানুষের সাথে এডজাষ্ট বা মানিয়ে চলতে হবে। চেঞ্জ হবনা বা এডজাষ্ট করব না এরকম টক্সিক মানসিকতা চেঞ্জ করতে হবে।
৪। সকল সমস্যার সমাপ্তিঃ
'Marriage is not the solution to all problems.' আপনার বিয়ে হয়ে গেছে এ জন্য মনে করবেন না আপনার সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। আপনার নিজের প্রব্লেম আপনাকেই সলভ করতে হবে ষ্ট্রেস, ডিপ্রেসন, এংজাইটি কিংবা অন্য কিছু। অনেক সময় পার্টনার হেল্পফুল বা সাপোর্টিভ হলে প্রব্লেম সলভ দ্রুত হয় কিন্ত সেটা এক্সটারনাল এসিস্ট্যান্ট।
৫। কাকে বিয়ে করবঃ
জীবনের সব চেয়ে বড় এই সিদ্ধান্ত নিতে বেশিরভাগ মানুষ বিষন্নতায় ভোগে। কাকে বিয়ে করব! আপনার লাইফে প্রথম প্রায়োরিটি কি, আপনি কি চান, সেই গুন গুলো পার্টনারের মধ্যে আছে কিনা খুজুন। তার আগে নিজেকে চিনুন। নিজেকে চিনতে না পারলে কখনোই আপনি মনের মত পার্টনার খুজে পাবেন না।
পরিশেষে, সবার দাম্পত্য জীবন সুখের হোক এবং সবাই সবার পছন্দের পার্টনারকে খুজে পাক। সাথে থেকে সাপোর্ট করার জন্য ধন্যবাদ। কমেন্ট করে জানাতে পারেন কোন বিষয়ে লেখা প্রয়োজন। আমরা আপনাদের পছন্দমত আর্টিকেল উপহার দেয়ার চেষ্টা করব ইনশা আল্লাহ।
0 মন্তব্যসমূহ