আজ আপনাদের সাথে মেয়েদের তিনটি মানসিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করব। এই সমস্যা গুলো ছেলেদের ও হয় কিন্তু মেয়েরা এই সমস্যায় বেশি আক্রান্ত। লেখায়ঃ জাকিয়া তাজরিন লোপা চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক -
১। Hoarding disorder:
এই সমস্যাটি যে কোনো বয়সের নারী বা পুরুষের মধ্যে হয়ে থেকে। বেশিরভাগ হয়ে থাকে গৃহিনীদের মধ্যে। কিছু কমন লক্ষন যেগুলো দেখে বুঝতে পারবেন আপনি কিংবা আপনার বাড়ির একজন সদস্য hoarding disorder এ আক্রান্ত।
জিনিস জমিয়ে রাখার প্রবনতা। সেটা হতে পারে থালা বাটি কিংবা কসমেটিক্স কাপড়।
জিনিস কিনে সেটা নিজে ব্যবহার না করে কিংবা অন্যকেও ব্যবহার করতে দেয়া হয়না। সেটি বছরের পর বছর সাজিয়ে রেখে দেয়া হয়।
২। Obsessive Compulsive Disorder:
এটিও একটি মানষিক রোগ। একি কাজ বারবার করার প্রবনতা, কিংবা অস্বাভাবিক পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার প্রবনতা। এটাকে বাংলায় সূচিবায়ু বলা হয়ে থাকে। এর লক্ষন হচ্ছেঃ
একটা পরিষ্কার জিনিস আবারো পরিষ্কার করা। যেটা পরিষ্কার আছে কিন্তু তার কাছে অপরিষ্কার মনে হয়।
দীর্ঘ সময় ধরে একি কাজ করা। অনেকের কাজ করতে সময় বেশি লাগে। কিন্তু যারা ওসিডি তে আক্রান্ত তারা অস্বাভাবিক সময় লাগান কাজে।
বারবার হাত ধোয়ার প্রবনতা। পরিষ্কার জিনিসকেও অপরিষ্কার মনে হওয়া।
এগুলো ওসিডি আক্রান্ত মানুষের খুব সাধারন কিছু লক্ষন। এর বাইরেও অনেক ধরনের লক্ষন আছে।
৩। Generalized Anxiety Disorder:
এই রোগে আক্রান্ত মানুষ সারাক্ষন চিন্তা বা টেনসন করে। এর লক্ষন হচ্ছেঃ
অতিরিক্ত টেনসন করা
সবসময় বিপদ হবে এরকম ভাবা। এই কারনে সারাক্ষন উত্তেজিত থাকা।
বিপদের কথা ভেবে ঘরে বসে থাকা, কোনো রিস্ক না নেয়ার প্রবনতা।
টেনসন আমরা সবাই করে থাকি। মানুষের খুব সাধারন একটি সমস্যা। কিন্তু আমাদের চারপাশে এরকম অনেকে আছেন যাদের অতিরিক্ত টেনসন বা সচেতনতার জন্য স্বাভাবিক জীবিন যাপন ব্যহত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রপার কাউন্সিলিং নিতে হবে।
উপরের লক্ষন গুলো আপাতদৃষ্টি তে স্বাভাবিক মনে হলেও যদি এগুলো আপনার স্বাভাবিক জীবনকে ব্যহত করে তাহলে অবশ্যই মনোরোগ বিশেষজ্ঞ কে দেখাতে হবে।

0 মন্তব্যসমূহ