মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে পবিত্র রমজান মাস দরজায় কড়া নাড়ছে শারীরিক, মানসিক, এবং আত্নীক পরিশুদ্ধির জন্য।
শারীরিকভাবে সুস্থ সবার জন্য পবিত্র রমজান মাসের রোজা রাখা ফরজ। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা পবিত্র রমজান মাসের রোজা কে নানা রোগ নিরাময়ের নিয়ামত বলছে। অটোফেজি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ গুলো নষ্ট হয়ে যায় ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়। পবিত্র রমজান মাস সেই সুযোগ ই নিয়ে আসছে।
অনেকে বলে থাকেন রোজা ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ক্ষতিকর। চিকিৎসা বিজ্ঞানে রোজা রাখলেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। রোজা বিপাক ক্রিয়া কে শক্তিশালী করে, অগ্নাশয় কে কর্মক্ষম করে টাইপ ওয়ান টাইপ টু ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনে।
এছাড়াও এসিডিটি, আলসার, উচ্চ রক্তচাপ, এবং উচ্চ কোলেস্টরল মত যে কোন বয়সীদের রোগ নিয়ন্ত্রণে আনে।
রোজার বিস্ময়কর এই শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য আজ থেকে চৌদ্দশ বছর আগে হযরত মুহাম্মদ (সা) বলেছেন, "তোমরা রোজা রাখো যেন সুস্থ থাকতে পারো। " রোজা রেখে তখনই সুস্থ থাকতে পারবেন যেভাবে হযরত মুহাম্মদ (সা) রোজা পালন করতে বলেছেন।
ইফতারে কি খাবেন?
ইফতারে অবশ্যই হালকা কিছু খেতে হবে। কয়েকটি খেজুর এবং পানি দিয়ে ইফতার করুন। খেজুর এবং পানির মিশ্রণ সুক্রোজ তৈরি হয়, যা তাৎক্ষণিক ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।
এশা এবং তারাবী নামাজ পড়ে রাতের খাবার খেয়ে নিন। রাতের খাবারে ভাত, ডাল, এবং সবজির সাথে মাছ, মাংস, অথবা ডিম রাখুন। সালাদ, লেবু, টক দই খান পানিশূন্যতা দূর হবে।
আমাদের দেশের রমজান আসলে বাজারে হরেক রকমের ইফতার কিনতে পাওয়া যায়। তেলেভাজা ইফতার বর্জন করুন হোক সেটা বাড়িতে তৈরি কিংবা বাজারের। পবিত্র রমজান মাস সংযমের মাস, তাই নিজেকে সংযত রাখুন।
সেহরিতে কি খাবেন?
প্রোটিন পানির পিপাসা বাড়ায়। তাই সেহরিতে স্বল্প পরিমাণ প্রোটিন খাওয়ার চেষ্টা করুন। অনেকে আছেন ইচ্ছাকৃতভাবে সেহরি তে কিছু খায়না, এই অভ্যাসটি বর্জন করুন। অবশ্যই কিছু না কিছু খাওয়ার চেষ্টা করবেন।
সেহরি শেষে কি করবেন?
সেহরি শেষ করে ব্রাশ ও অযু করে কিছুক্ষণ বজ্রাসনে বসুন। তারপর অর্থসহ পবিত্র কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করুন অথবা ফোনে অডিও কুরআন তেলাওয়াত শুনুন। নামাজ আদায় করে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নিজ কাজ করুন।
রোজা রেখে যা করা যাবে নাঃ
- রোজা রেখে পাপ কাজ যেমন গান, সিনেমা, সমালোচনা ইত্যাদি কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
- স্মার্ট ফোনে কম সময় দিন। যতটুকু সময় পান ইবাদত করে কাটিয়ে দেয়ার চেষ্টা করুন। মনে করবেন এটাই আপনার জীবনের শেষ রমজান।
- রমজানের আগেই বাহিরের কাজ যেমন কেনাকাটা বা অন্যান্য কাজ থাকলে আগেই শেষ করে ফেলুন।
ইফতারের সময় যা করবেনঃ
ইফতারের আগে খেজুর পানি নিয়ে পরিবারের সবাই মিলে দোয়া করুন। কারন দোয়া কবুলের এটা শ্রেষ্ট সময়। পবিত্র রমজান মাসে কুরআন নাজিল হয়। মহান আল্লাহ বলেছেন, " বিশ্বাসীদের জন্য পবিত্র কুরআন রহমত ও শেফা স্বরুপ।" সুরা বনী ইসরাইল, (আয়াত ৮২)
আপনার শারিরীক মানসিক আত্নিক যেকোনো কিছুরে শেফা হতে পারে। পবিত্র কোরআন মনছবি বাস্তবের হাতিয়ার। তাই পবিত্র কুরআন বুঝে পড়তে হবে।
রমজান মাসের নফল ইবাদাত ফরজ ইবাদাত এর সমান নেকি পাওয়া যায়।একটি ফরজ ইবাদাত ৭০ টি ফরজ আদায়ের সমান। নামাজ আদায়ের পর নিরবে ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৩ বার সুবাহান আল্লাহ, এবং ৩৪ বার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আঁকবার পড়ুন। সেহরির আগে তাহাজ্জদ এর নামাজ আদায় উত্তম ইবাদাত।
নবিজি ( সা) বলেন, এ মাসে এমন একটি রাত আছে যে রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। শেষ ১০ রমজানের বিজোর রাত্রিতে ইবাদতে মগ্ন হোন।
রমজানে বেশি বেশি দান এবং যাকাত আদায় করার চেষ্টা করুন। বর্তমানে বাজারের দাম অনেক বেশি তাই অতিরিক্ত না খেয়ে সেটা বাঁচিয়ে গরীব দুঃখী প্রতিবেশী দের সাহায্য করুন। আপনার প্রতি তাদের হক তাই হক পালন করুন। রমজানে এতিম মিসকিন গরীবদের সাহায্য করা ৪৯০০ গুন সওয়াবের।
রোজা রেখেও রক্ত দেয়া যায়, তাই রমজান মাসে রক্ত দিয়ে চারটি প্রান বাচান। রমজানে তা হবে ২৮০টি লোকের প্রান বাচানোর সমান।
রমজানে সামাজিক ফিটনেসের চর্চা করুন।।সবাইকে আগে সালাম দিয়ে বাস্তব যোগাযোগ বাড়িয়ে দিন। নিজের জন্য এবং প্রিয়জনের জন্য দোয়া করুন।
লেখাঃ জাকিয়া তাজরিন লোপা




0 মন্তব্যসমূহ