জীবনে চলার পথে আমরা সম্পর্কে জড়িয়ে পরি। সম্পর্ক করা যতটা সহজ রক্ষা করা ঠিক ততটাই কঠিন। নিয়মিত সম্পর্কের অনুশীলনের মাধ্যমে সম্পর্ক সুন্দর রাখা যায়। আমরা অনেক সময় ছোট ছোট জিনিস গুলো কে প্রাধান্য দেই না, ফলে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সম্পর্ক গুলো ভেঙ্গে যেতে থাকে।
আসুন জেনে নেয়া যাক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতেই স্পেশাল কিছু টিপসঃ
অনুভুতি প্রকাশ করাঃ আমরা অনেক সময় মনের কথা মনের ভেতরে-ই রেখে দেই । সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার এটি অন্যতম কারন। আমরা ভাবি সামনের জন হয়তো এমনিতেই সব বুঝবে । ফলে অনেক সময় দেখা যায় সামনের জন আমাদের থেকে যা আশা করছে শোনার জন্য তা না বলাই থেকে যায় । আমাদের উচিত দৈনন্দিন জীবনে আমাদের ভেতরের অনুভূতিগুলিকে প্রকাশ করা। আপনি তাকে কতটা ভালবাসেন, কতটা ভাবেন এই অনুভুতি গুলো শেয়ার করুন, দেখবেন তার কাছ থেকে পজিটিভ রিভিউ পাবেন।
সুন্দর মুহুর্ত কাটানোঃ মহান জীবন আর কিছু নয় ,
কতগুলো মুগ্ধ্কর ও মধুর স্মৃতির সমাবেশ মাত্র ।
আজকালকার ব্যস্ত ডিজিটাল যুগে সবাই পাশে থেকেও পাশে নেই । প্রযুক্তির দৌলতে আমরা ভার্চুয়াল দুনিয়াতে নিজের জায়গা করে নিতে ব্যস্ত । আমরা দিনের বেশিরভাগ সময়টাই যাদের সঙ্গে কাটাই তাদের ভাল করে জানি-ই না । অথচ আমাদের প্রিয়জনরা যারা সর্বদা আমাদের পাশে রয়েছে , তাদের জন্য সময় বের করার কথা আমরা অনেক সময় ভাবতে ভুলে যাই । ফলে সম্পর্ক গুলি আলগা হতে শুরু করে । রোজ যদি আমরা আমাদের প্রিয়জনদের সাথে কিছুটা সময় কাটাই , একে অপরের সাথে গভীরভাবে ও খোলাখুলিভাবে যুক্ত থাকি , তাহলে আমাদের সম্পর্কগুলি পুনরায় সতেজ হবে , তাতে প্রাণ ফিরে আসবে । কারন এই সুখকর মুহূর্তগুলি আমাদের জীবন এ এতটাই শান্তি দেয় যা জীবনের অন্যতম সফল ক্রিয়া হিসাবে স্মৃতিতে থেকে যায় ।
ক্ষমা করাঃ অতীতের কোন এক ভুল কে সামনে রেখে বর্তমানের সুন্দর মুহূর্তগুলোকে নষ্ট করে তোলে । একটা “ছোট” ক্ষমাই পারে সম্পর্কের যাবতীয় মলিনতা মুছে দিয়ে সেখানে সূর্যের প্রখর রশ্মির বিচ্ছুরণ ঘটাতে । ভুল করা স্বাভাবিক, মানুষ মাত্রই ভুল করে। তাই প্রিয়জনকে ক্ষমা করতে শিখুন। সরি বলা শিখুন আপনি যদি ভুল নাও করে থাকেন, তবুও সরি বলুন, দেখবেন আপনার প্রিয়জন নিজের ভুল বুঝতে পেরে স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
যত্ন নেওয়া :
এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে সম্পর্ক রক্ষা ও সুন্দর করতে একে অপরকে কেয়ার বা যত্ন করা প্রয়োজন । একটি গাছ সঠিক যত্নের ফলে সুগন্ধ ছড়িয়ে ফলে ফুলে যেমন সুশোভিত করতে পারে , তেমনি সম্পর্কের ভীত মজবুত করতে যত্ন নেওয়া চাই ।
গিফট করাঃ
ছোট থেকে বড় সবাই গিফট পেতে পছন্দ করে। সবসময় যে দামি গিফট করতে হবে তা নয়, ছোট গিফট দিয়েও আপনি আপনার প্রিয়জনের মন জয় করতে পারেন।ছোট ছোট জিনিস , ছোট ছোট ক্রিয়াকলাপ একে অপরকে দিলে সকলেই খুশি থাকে ।
প্রশংসা করা : প্রশংসা শুনতে কে না ভালবাসে। তার প্রতিটি কাজে প্রশংসা করুন, কোনো কাজে সফল হলে তাকে আরো বেশি অনুপ্রানিত করুন, দেখবেন আপনি তার কাছে মহামুল্যবান হীরের মত দামি হয়ে গেছেন।
স্বাধিনতা দেয়াঃ স্বাধীন ভাবে চলতে সবাই পছন্দ করে। খাচায় বন্দি জীবন বা চার দেয়ালের মাঝে কেউ ই থাকতে চায়না। তাই স্বাধীনতা দিন, তার মত করে চলতে দিন। প্রতিটা সম্পর্কের মধ্যেই একে অপরকে স্পেস বা স্বাধীনতা দেওয়া অত্যন্ত জরুরী । জোড় করে নিজের মতামত চাপিয়ে দেওয়ার ফলে অনেক সম্পর্কই শাড়শীতে আটকানো মাছির মত ছটফট করে , ফলে প্রাণের স্বরূপ রুদ্ধ হয় ।
অতীত নিয়ে কথা বলাঃ জীবনে সবাই ভুল করে। আপনার প্রিয়জনের যদি খারাপ কোনো অতীত থাকে তাহলে সেটা নিয়ে খোটা দেয়া কিংবা সেটা মনে করিয়ে দেয়া বিবেকহীনতার পরিচয় দেয়া। তাই অতীতের কথা ভুলেও তুলবেন না। সবসময় তার বর্তমানকে ভালবাসুন।
ঘুড়তে যাওয়াঃ সময় করে একসাথে ঘুড়তে যান কোনো প্রাকৃতিক জায়গায়। মাঝে মাঝে জোতস্না রাত, কিংবা এক সাথে সূর্যাস্ত দেখুন। দেখবেন জীবনের অনন্য স্বাদ গুলো আপনাদের কাছে এসে ধরা দেবে।
উইশঃ স্পেশাল দিন গুলো সেলিব্রেট করার চেষ্টা করুন। সময় মত উইশ করুন, সারপ্রাইজ দিন এতে করে সম্পর্ক আরো ভাল থাকবে।
জাকিয়া তাজরিন লোপা
ব্লগার

0 মন্তব্যসমূহ